হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

Published On: May 13, 2025
হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

বর্তমান যুগে প্রাকৃতিক ও বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে হিজামা (Cupping Therapy) একটি সুপরিচিত ও সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও হিজামা গ্রহণ করেছেন এবং উম্মতকে তা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে হিজামার যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি কিছু সতর্কতাও রয়েছে।

Table Of Contents

Table of Contents

হিজামা কী?

হিজামা (Hijama) হলো একটি প্রাচীন এবং সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত ও অপ্রয়োজনীয় রক্ত বের করে দেওয়া হয়। এটি ইংরেজিতে Cupping Therapy নামে পরিচিত।

হিজামা সাধারণত বিশেষ ধরনের কাপ ব্যবহার করে করা হয়, যেগুলো ত্বকে লাগিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়। এরপর কিছুক্ষণের জন্য সেই জায়গায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো হয় এবং প্রয়োজনে সেখানে হালকা কেটে রক্ত বের করে দেওয়া হয়।

হিজামার মূল উদ্দেশ্য:

  • দেহের ক্ষতিকর পদার্থ ও বিষাক্ত রক্ত বের করে শরীরকে বিশুদ্ধ করা।
  • রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা।
  • ব্যথা, চর্মরোগ, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান দেওয়া।

হিজামার দুইটি প্রধান ধরন রয়েছে:

  1. ড্রাই হিজামা (Dry cupping) – শুধু কাপ দিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে রক্ত টেনে ধরা হয়, কাটা হয় না।
  2. ওয়েট হিজামা (Wet cupping) – ভ্যাকুয়াম দেওয়ার পর ত্বকে ছোট কাটা দিয়ে রক্ত বের করা হয়

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসারহিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসারহিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামার উপকারিতা ১০ টি

হিজামা বা কাপিং থেরাপি শুধু প্রাচীন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নয়; এটি বিজ্ঞানের আলোতেও কার্যকর এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সুন্নাহ চিকিৎসা। নিচে হিজামার গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. বিষাক্ত রক্ত ও টক্সিন দূর করে

হিজামার মাধ্যমে শরীর থেকে জমে থাকা বিষাক্ত রক্ত (Toxic Blood) বের করে দেওয়া হয়। এই রক্ত শরীরের বিভিন্ন জটিলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। হিজামা সেই জমে থাকা রক্ত অপসারণ করে শরীরকে করে তোলে হালকা ও সজীব।

২. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে

হিজামা ত্বকের নিচে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে, যার ফলে নতুন রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং দেহকোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় সহজে। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হয়।

৩. ব্যথা ও ইনফ্লেমেশন কমায়

পিঠ, ঘাড়, হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা, আর্থরাইটিস, ফাইব্রোমায়ালজিয়া প্রভৃতি রোগে হিজামা খুবই কার্যকর। এটি স্নায়ু চাপ (nerve pressure) কমিয়ে ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে, ফলে ব্যথা কমে যায়।

৪. মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের আরামদায়ক সমাধান

অনেক সময় নিয়মিত মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার কারণ হয় টক্সিন জমে থাকা বা রক্ত সঞ্চালনের অসামঞ্জস্য। হিজামা মাথার নির্দিষ্ট পয়েন্টে করে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৫. মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও নিদ্রাহীনতা হ্রাস করে

হিজামা থেরাপি শরীরের পাশাপাশি মনকে প্রশান্তি দেয়। এটি করালে শরীরে এন্ডরফিন (ভালো লাগার হরমোন) নিঃসরণ হয়, যা ডিপ্রেশন, টেনশন এবং ঘুমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) বৃদ্ধি করে

হিজামার ফলে শরীর নিজে থেকে রোগ প্রতিরোধ করার শক্তি ফিরে পায়। এটি লসিকা (lymphatic system) ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।

৭. হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে

মহিলাদের জন্য হিজামা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। এটি PCOS, অনিয়মিত মাসিক, হরমোনজনিত ব্রণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে শরীরের হরমোন সিস্টেমকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে।

৮. চর্মরোগ ও এলার্জির উপশম

একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি, এলার্জি ইত্যাদি ত্বকের সমস্যায় হিজামা অত্যন্ত কার্যকর। এটি চর্মরোগের শেকড় ধ্বংস করে রোগমুক্তি ঘটায়।

৯. পরিপাকতন্ত্র ও হজমে সহায়তা

যাদের গ্যাস্ট্রিক, বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, হিজামা তাদের জন্য প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। হজম শক্তি বাড়িয়ে খাদ্য শোষণে সহায়তা করে।

১০. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে উপকারী

যদিও সম্পূর্ণ নিরাময় নয়, তবে হিজামা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামার অপকারিতা ১০ টি

১. ইনফেকশনের ঝুঁকি

হিজামার সময় যদি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত না হয় বা একাধিক রোগীর জন্য একই ব্লেড ব্যবহার করা হয়, তবে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এতে হেপাটাইটিস-বি, সি বা এইডস পর্যন্ত হতে পারে।

২. অতিরিক্ত রক্তপাত

ওয়েট হিজামার সময় ভুল জায়গায় বা বেশি কাট দিলে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে না আসা, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৩. ত্বকে স্থায়ী দাগ

কাপিং করার ফলে ত্বকে গোলাকার কালো দাগ বা স্কার পড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে।

৪. মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানো

রক্তচাপ কমে গেলে বা অতিরিক্ত রক্ত বের হলে কিছু রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন, বিশেষ করে যদি তারা না খেয়ে হিজামা করেন।

৫. ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব

হিজামা করার জায়গায় অনেক সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হতে পারে। কখনো ত্বকে চুলকানির মতো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

৬. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) হওয়ার সম্ভাবনা

প্রায়ই বা অতিরিক্ত হিজামা করলে দেহে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করতে পারে।

৭. সংবেদনশীল রোগীদের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া

কিছু রোগীর ত্বক এতটাই সংবেদনশীল যে হিজামার পর অ্যালার্জি, র‍্যাশ বা চর্ম প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

৮. অসাবধানতার ফলে স্নায়ু বা রক্তনালী ক্ষতি

অনভিজ্ঞ থেরাপিস্ট ভুলভাবে হিজামা করলে স্নায়ু বা শিরা কেটে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হতে পারে।

৯. মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য ভয় বা প্যানিক

রক্ত দেখলে বা হালকা কাটলে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যার ফলে প্যানিক অ্যাটাক বা প্রচণ্ড ভয়ও তৈরি হতে পারে।

১০. গর্ভবতী বা গুরুতর অসুস্থদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

গর্ভাবস্থায়, কিডনি বা হার্টের জটিল রোগে ভোগা রোগীদের জন্য হিজামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা হয়।

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামা কিভাবে করা হয়?

হিজামা কিভাবে করা হয়?

হিজামা মূলত দুইভাবে করা হয়:

  • ড্রাই হিজামা (Dry Cupping) – রক্ত বের করা হয় না।
  • ওয়েট হিজামা (Wet Cupping) – ত্বকে হালকা কাট দিয়ে রক্ত বের করা হয়।

১: রোগীকে প্রস্তুত করা

  • রোগীকে রিল্যাক্স অবস্থায় বসানো বা শুইয়ে দেওয়া হয়।
  • সাধারণত পিঠ, ঘাড়, মাথা, হাঁটু বা অন্যান্য নির্দিষ্ট পয়েন্ট নির্বাচন করা হয়।
  • থেরাপিস্ট রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস জানতে চান (যেমন: ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, ওষুধ সেবন ইত্যাদি)।

২: জায়গাটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা

  • নির্দিষ্ট পয়েন্টে অ্যালকোহল প্যাড বা অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
  • এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

৩: কাপ বসানো (প্রথমবার)

  • নির্দিষ্ট পয়েন্টে সাকশন কাপ লাগানো হয়।
  • ম্যানুয়াল বা ইলেকট্রিক পাম্পের সাহায্যে কাপের ভেতর ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়।
  • এতে ত্বক উপরের দিকে উঠে আসে এবং ওই স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
  • ৩-৫ মিনিট পর কাপ খুলে ফেলা হয়।

৪: হালকা কাটা (Incision)

  • খুব সরু ব্লেড বা স্টেরাইল সুই দিয়ে ত্বকে ছোট ছোট হালকা কাট দেওয়া হয় (৫-৭টি হালকা স্ক্র্যাচ)।
  • কাট খুবই সূক্ষ্ম এবং ব্যথাহীন হয়।

৫: পুনরায় কাপ বসানো (রক্ত নিষ্কাশন)

  • আবার সেই পয়েন্টে কাপ বসিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়।
  • এবার ত্বকের কাটা অংশ দিয়ে জমে থাকা বিষাক্ত রক্ত বের হয়ে কাপের মধ্যে জমে ওঠে।
  • সাধারণত ৫-১০ মিনিটে প্রয়োজনীয় রক্ত বের হয়।

৬: কাপ সরিয়ে জায়গা পরিষ্কার করা

  • কাপ সরিয়ে রক্ত মুছে ফেলা হয়।
  • ত্বকে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা মধু লাগানো হয় দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার জন্য।
  • চাইলে ব্যান্ডেজও দেওয়া যেতে পারে।

৭: থেরাপির পর পরামর্শ

  • হিজামার পর রোগীকে অন্তত ১–২ ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে বলা হয়।
  • ২৪ ঘণ্টা গোসল, ভারী কাজ বা যৌন সম্পর্ক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • হালকা খাবার খেতে বলা হয় এবং প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামা করার সেরা সময়

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজামার উত্তম সময় সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, হিজামা করার সর্বোত্তম সময় হলো চন্দ্র মাসের বিজোড় দিনসমূহ, বিশেষ করে:

🌙 চন্দ্র মাসের:

  1. ১৭ তারিখ
  2. ১৯ তারিখ
  3. ২১ তারিখ

🔹 রাসূল (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি চন্দ্র মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করবে, তার জন্য তা রোগ মুক্তির কারণ হবে।”
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৬১)

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, হিজামা করার জন্য এমন সময় নির্বাচন করা উত্তম:

  1. যখন পেট খালি থাকে (খাওয়ার অন্তত ২–৩ ঘণ্টা পর)
  2. সকালে বা বিকেলের দিকে
  3. শরীরের রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকলে

হিজামার সেরা সময়ের সারাংশ

বিবরণসেরা সময়
📅 চন্দ্র মাসের দিন১৭, ১৯, ২১ (বিজোড় দিন)
🗓️ সপ্তাহের দিনসোমবার, মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার
🕰️ সময়সকাল ৯টা – দুপুর ১২টার মধ্যে বা বিকেলে
🍽️ পেটের অবস্থাখালি পেটে (সেহরি বা খাবার থেকে ৩ ঘন্টা পর)

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামা খরচ – বাংলাদেশ ও অনুরূপ দেশগুলোতে (ভারত, পাকিস্তান)

হিজামা থেরাপি বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে এর খরচ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক হয়ে থাকে, যেমন: থেরাপিস্টের অভিজ্ঞতা, লোকেশন, সেবার ধরন (ড্রাই / ওয়েট হিজামা), ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মান।

🇧🇩 বাংলাদেশে হিজামা থেরাপির খরচ:

হিজামার ধরনখরচ (প্রতি সেশন)
ড্রাই হিজামা (Dry Cupping)৳ ৫০০ – ৳ ৮০০
ওয়েট হিজামা (Wet Cupping)৳ ৮০০ – ৳ ১৫০০
ফুল বডি হিজামা৳ ২০০০ – ৳ ৪০০০
VIP/হোম সার্ভিস হিজামা৳ ৩০০০ – ৳ ৬০০০

🔹 লোকেশনভেদে পার্থক্য:

  1. ঢাকার অভিজাত এলাকায় (যেমন বনানী, গুলশান) খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।
  2. জেলা শহর ও মফস্বলে তুলনামূলক কম।

🔹 হিজামা পয়েন্টের সংখ্যা:

  1. সাধারণত ৩–৭টি পয়েন্টে হিজামা করা হয়। বেশি পয়েন্টে করলে খরচও বাড়ে।

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

🇮🇳 ভারতে হিজামা খরচ (দিল্লি, কলকাতা, হায়দ্রাবাদ ইত্যাদি):

থেরাপি ধরনখরচ (INR)
সাধারণ হিজামা₹ ৪০০ – ₹ ৮০০
অ্যাডভান্স থেরাপি₹ ১০০০ – ₹ ২০০০

🇵🇰 পাকিস্তানে হিজামা খরচ:

থেরাপি ধরনখরচ (PKR)
সাধারণ হিজামাRs. ৫০০ – Rs. ১২০০

হিজামা কতো প্রকার?

🔹 ১. ড্রাই হিজামা (Dry Cupping)

এটি এমন এক প্রকার হিজামা যেখানে শুধু কাপ দিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়, কিন্তু ত্বকে কোনো কাট বা রক্ত বের করা হয় না।

উপকারিতা:

  • ব্যথা কমানো
  • রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো
  • স্ট্রেস ও ক্লান্তি দূর করা

কার জন্য ভালো:

  • যাদের রক্তপাত এড়াতে হয় (যেমন: রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি)

🔹 ২. ওয়েট হিজামা (Wet Cupping)

এটি সুন্নাহভিত্তিক ও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হিজামা। এতে ভ্যাকুয়াম করার পর ত্বকে হালকা কাট দিয়ে জমে থাকা বিষাক্ত রক্ত বের করা হয়।

উপকারিতা:

  • শরীর থেকে টক্সিন বের করা
  • মাথাব্যথা, গাঁটে ব্যথা, মাইগ্রেন ও বিভিন্ন রোগ উপশম
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

🔹 ৩. ফায়ার হিজামা (Fire Cupping)

এই পদ্ধতিতে কাপের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে দ্রুত ত্বকে বসিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়। এটি মূলত প্রাচীন চীনা চিকিৎসা পদ্ধতির অনুরূপ।

গুরুত্বপূর্ণ:

  • বাংলাদেশ বা ইসলামি চিকিৎসায় খুব কম ব্যবহৃত হয়
  • ব্যবহারে সতর্কতা দরকার (দাহ বা পুড়ার ঝুঁকি)

🔹 ৪. মুভিং হিজামা (Moving Cupping)

এটি ড্রাই হিজামার একটি রূপ, যেখানে ত্বকে তেল দিয়ে কাপ বসিয়ে আলতো করে স্লাইড করা হয়। এটি একধরনের ম্যাসাজ থেরাপি।

উপকারিতা:

  • পেশি শিথিল করা
  • রক্ত চলাচল বৃদ্ধি
  • ব্যথা উপশম

সারাংশ :

হিজামার ধরনরক্ত বের হয়?বৈশিষ্ট্যসবচেয়ে উপকারী ক্ষেত্রে
ড্রাই হিজামানাশুধু ভ্যাকুয়ামব্যথা, স্ট্রেস
ওয়েট হিজামাহ্যাঁভ্যাকুয়াম + কাট + রক্তপাতরোগ নিরাময়, সুন্নাহ
ফায়ার হিজামানাআগুনের সাহায্যে ভ্যাকুয়ামপেশি ব্যথা, স্টিফনেস
মুভিং হিজামানাকাপ স্লাইড করে ম্যাসাজব্লাড ফ্লো, পেশি রিল্যাক্স

হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

❌ কারা হিজামা করতে পারবেন না? – বিস্তারিত তালিকা

১. গর্ভবতী নারী (বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে)

হিজামা করার সময় শরীর থেকে রক্ত বের হয়, যা গর্ভাবস্থায় জরায়ু সংকোচন বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২. রক্তস্বল্পতা (Anemia) বা হিমোগ্লোবিন কম থাকলে

যাদের রক্তে লোহিত কণিকার ঘাটতি রয়েছে (Hb < ১১), তাদের রক্ত বের করলে অতিরিক্ত দুর্বলতা বা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৩. রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী (Blood Thinner Users)

যেমন: Aspirin, Warfarin, Clopidogrel ইত্যাদি।
এই ওষুধে রক্ত জমাট বাঁধে না, ফলে হিজামার পর রক্তপাত বন্ধ না হওয়া বা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে।

৪. যারা খুব দুর্বল বা অপুষ্টিতে ভুগছেন

খুব দুর্বল দেহে রক্ত বের করা হলে হাইপোটেনশন, মাথা ঘোরা, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৫. ডায়াবেটিস রোগী (বিশেষত ইনসুলিন সেবনকারী)

  • ত্বকে কাট দেওয়া হলে ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে
  • সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি
  • তবে নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে চিকিৎসকের পরামর্শে হিজামা করা যেতে পারে।

৬. তীব্র ব্যথা বা জ্বর থাকা অবস্থায়

  • শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তখন কম থাকে
  • অতিরিক্ত চাপ শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে

৭. ত্বকে সংক্রমণ, ফোড়া বা চর্মরোগ থাকলে

যে জায়গায় হিজামা করা হবে সেখানে যদি একজিমা, ফোড়া বা ইনফেকশন থাকে, সেখানে হিজামা করলে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৮. হেমোফিলিয়া রোগী (রক্ত জমাট বাঁধে না)

এই রোগীরা সাধারণ কেটে গেলে রক্ত বন্ধ হয় না, ফলে হিজামা তাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

৯. হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার পর পর

এই সময় দেহ খুবই দুর্বল থাকে, হিজামার চাপ সহ্য করতে না পেরে অতিরিক্ত স্ট্রেস বা জটিলতা হতে পারে।

১০. বাচ্চা ও খুব বৃদ্ধ বয়সে (৬০ বছরের বেশি)

বাচ্চাদের শরীর ও ইমিউন সিস্টেম উন্নত না হওয়ায় এবং বৃদ্ধদের রক্তচাপ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে হিজামা করা সতর্কতা সাপেক্ষে বা এড়িয়ে চলা উচিত।

মন্তব্য হিজামার উপকারিতা ও অপকারিতা সুন্নাহ চিকিৎসার

হিজামা একটি প্রাচীন, প্রাকৃতিক ও সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি যা যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রক্ত বের করে দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক রোগ উপশমে সহায়তা করে।

তবে মনে রাখতে হবে, হিজামা করার জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি, সময় নির্বাচন এবং অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক নিয়মে, নির্দিষ্ট দিনে ও বিশ্বস্ত স্থানে হিজামা করালে এটি হতে পারে আপনার জন্য সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। সুতরাং, হিজামাকে শুধু একটি চিকিৎসা নয়, বরং সুন্নাহ পালনের মাধ্যম হিসেবেও গ্রহণ করা উচিত।

---Advertisement---

Leave a Comment