ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

Published On: May 18, 2025
ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

বর্তমান যুগে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের প্রথম পছন্দ হচ্ছে ফাইবার ও প্রাকৃতিক সুপারফুড। ইসবগুলের ভুসি (Psyllium Husk) ও তোকমা দানা (Sabja/Basil Seeds) — এই দুই উপাদান শরীরকে করে তোলে সুস্থ ও সক্রিয়। চলুন জেনে নেই এগুলোর পুষ্টিগুণ, ব্যবহার পদ্ধতিসতর্কতা

TABLE OF CONTENT

Table of Contents

1. ইসবগুলের ভুসির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ইসবগুলের ভুসির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ইসবগুলের ভুসি বা Psyllium Husk হলো পাতিলতা (Plantago ovata) বীজের বাইরের স্তর, যা মূলত ফাইবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস। এটি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে শরীর নানা রকম স্বাস্থ্যগত সুবিধা পায়।

১. উচ্চমানের জলভেজা (Soluble) ফাইবার

  1. প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৭–৮ গ্রাম ফাইবার: ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশে জেল–মত পদার্থ তৈরি করে, যা পাকপ্রক্রিয়াকে ধীর করে ও পুষ্টি শোষণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  2. দীর্ঘস্থায়ী পেট ভরা অনুভূতি: জলভেজা ফাইবার পাকস্থলীতে জল শোষণ করে ফুলে ওঠে, ফলে বেশি সময় পেট ভরা লাগে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া সীমিত হয়।

২. হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা

  1. কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়: মলকে নরম ও ভরাট করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
  2. বিস্তারক (Bulk-forming) ল্যাক্সেটিভ: কোষ্ঠকাঠিন্য ছাড়া অন্য রকম দুশ্চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে।

৩. রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ

  1. গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে: খাবারের পর রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামি কমিয়ে স্থিতিশীল করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী।
  2. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি: নিয়মিত সেবনে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

৪. ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক

  1. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: খাবারের আগে ভুসি যুক্ত পানীয় খেলে ক্ষুধার অনুভূতি কমে।
  2. ক্যালরি গ্রহণ হ্রাস: দীর্ঘসময় পেট ভরা থাকার ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমে যায়, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৫. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

  1. LDL (খারাপ) কোলেস্টেরল কমায়: জলভেজা ফাইবার শরীরে থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বেঁছে নিয়ে বিশেষ নয়নীয় প্রক্রিয়ায় বাইরে ফেলে দেয়।
  2. HDL (ভালো) কোলেস্টেরল বজায় রাখে: ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা পায় এবং এথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তনালীর কষ্ঠ) রোধে সহায়তা করে।

৬. টক্সিন নির্মূল ও ত্বকের স্বাস্থ্য

  1. ডিটক্সিফিকেশন: অন্ত্রে জমে থাকা টক্সিন শুষে নিয়ে মলসহ শরীর থেকে বের করে।
  2. ত্বক উজ্জ্বলকরণ: অভ্যন্তরীণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও জ্বলজ্বলে।

টিপস:

  1. প্রচুর পানি: প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি পান করুন, কারণ ফাইবার প্রবলেম সৃষ্টি করতে পারে যদি পানি কম থাকে।
  2. ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি: শুরুতে ১ চা চামচ (৫ গ্রাম) দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে এপরিমান বাড়ান।
  3. ডাক্তারের পরামর্শ: উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে সেবনের আগে বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

2. তোকমা দানার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

তোকমা দানার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

তোকমা দানা বা Sabja/Basil Seeds দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা শুধু স্বাদই নয়—স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর। ছোট বীজগুলোর ভেতরে লুকানো থাকে চমৎকার পুষ্টি, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

১. উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

  • ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নিরোধক: তোকমা দানায় উপস্থিত ফেনোলিক কম্পাউন্ড ও ফ্ল্যাভোনয়েড প্রাচুর্য ফ্রি র‌্যাডিক্যাল শোষণ করে কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
  • বার্ধক্য রোধে সহায়ক: নিয়মিত সেবনে ত্বকে বলিরেখা ও ছিদ্রহীনতা কমে আসে।

২. সমৃদ্ধ ফাইবার

  • ডাইটরি ফাইবার: প্রতি টেবিল‌চামচ তোকমা দানায় প্রায় ৭–৮ গ্রাম ফাইবার, যা হজমকে প্রবাহিত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
  • বিস্তারক (Bulk-forming) ল্যাক্সেটিভ: অন্ত্রে জল শোষণ করে বীজগুলো ফুলে ওঠে, মলকে নরম করে মলত্যাগে সহজতা আনে।

৩. হাইড্রেশন ও ঠান্ডা বোধ

  • জল ধারণ ক্ষমতা: ভিজিয়ে রাখলে বীজ জেল–মত গঠন করে, শরীরকে অভ্যন্তরীণভাবে হাইড্রেটেড রাখে।
  • তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: গরমকালে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে দেহে শীতলতা বোধ করায়।

৪. ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক

  • ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: ভেজানো দানা গ্রাস করলে পেটে দীর্ঘক্ষণ ভরা ভাব বজায় থাকে, অতিরিক্ত খাবার হ্রাস পায়।
  • ক্যালরি গ্রহণ কমায়: নিম্ন ক্যালরি হওয়ায় ওজন কমাতে সহায়ক স্ন্যাক বিকল্প হিসেবে আদর্শ।

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ

  • গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে: খাদ্যের সাথে তোকমা দানার ফাইবার মিশে রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে মুক্তি পায়, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
  • ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি: নিয়মিত সেবনে ইনসুলিন কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে।

৬. ত্বক ও চুলের যত্ন

  • ত্বকের উজ্জ্বলতা: অভ্যন্তরীণ ডিটক্সিফিকেশনের ফলে ত্বক নিহিত উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
  • চুলের স্বাস্থ্য: দানায় লুকিয়ে থাকা মিনারেল (যেমন ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন) চুলের মেরুদণ্ড সুদৃঢ় করে ও ঝর্ণা কমায়।

৭. প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক।
  • ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন: পেশী ক্লান্তি কমিয়ে শক্তি প্রদান করে, রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
  • ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম: হাড় ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

কিভাবে ব্যবহার করবেন:

  • ১ টেবিলচামচ দানা ১৫–২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার আগে করুন।
  • স্মুদি, জুস বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • ঠান্ডা পানীয় হিসেবে লেবু-তোকমা শরবত তৈরি করুন—গরমে বিশেষ সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উপকারী।

সতর্কতা:

  • পর্যাপ্ত পানি ছাড়া না খেয়ে জায়গা প্লাগের সমস্যা হতে পারে।
  • অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হলে মাত্রা কমিয়ে বা বন্ধ করে দেবার পরামর্শ।
  • গর্ভবতী বা স্তনপানকারীর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

3. ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা একসাথে ব্যবহার: পদ্ধতি ও উপকারিতা

ইসবগুলের ভুসি (Psyllium Husk) ও তোকমা দানা (Sabja/Basil Seeds)—দুটি-ই ফাইবার এবং পুষ্টিতে ভরপুর। একসাথে সঠিকভাবে খেলে স্বাস্থ্যের অনবদ্য সুফল পাওয়া যায়

১. ডিটক্স ওয়াটার

উপকরণ:

  • ১ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি
  • ১ চা চামচ তোকমা দানা
  • ১ গ্লাস পানি (২৫০ মিলি)

পদ্ধতি:

  1. গ্লাসে পানি দিন।
  2. প্রথমে তোকমা দানা ঢেলে ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
  3. এরপর ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে নাড়ুন।
  4. ৫ মিনিট দাঁড়ান। তারপর ধীরে ধীরে পান করুন।

উপকারিতা:

  • অন্ত্র পরিষ্কার করে, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে
  • অভ্যন্তরীণ হাইড্রেশন নিশ্চিত করে
  • হজম শক্তি ও এনার্জি বৃদ্ধি করে

২. স্মুথি বা দইয়ের সাথে মিক্স

উপকরণ:

  • ১ কাপ দই বা আপনার পছন্দের স্মুথি बेस
  • ১ টেবিল চামচ ইসবগুলের ভুসি
  • ১ টেবিল চামচ ভিজানো তোকমা দানা

পদ্ধতি:

  1. দই বা স্মুথি ব্লেন্ডারে ঢালুন।
  2. আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা তোকমা ও ইসবগুলের ভুসি যোগ করুন।
  3. মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন।

উপকারিতা:

  • প্রোবায়োটিক্সের সাথে ফাইবারের সমন্বয়ে হজম-বন্য় কাজ অনুকূল করে
  • দীর্ঘক্ষণ পেটে ভরা অনুভূতি দেয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

৩. ঠান্ডা শরবত (লেবু–তোকমা–ভুসি)

উপকরণ:

  • ১ টেবিল চামচ ভিজানো তোকমা দানা
  • ১ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি
  • আধা লেবুর রস
  • ১ গ্লাস ঠান্ডা পানি
  • প্রয়োজনমতো খানিকটা মধু বা পেস্তা

পদ্ধতি:

  1. গ্লাসে পানি ও লেবুর রস মিশান।
  2. ভিজানো দানা ও ভুসি ঢেলে নাড়ুন।
  3. স্বাদমতো মধু বা পেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

উপকারিতা:

  • শরীরকে ঠান্ডা করে, গরমে সতেজ করে
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারের ভারসাম্যপূর্ণ যোগান

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

৪. একসাথে ব্যবহারের প্রধান উপকারিতা

  • হজমে সহায়তা: দুই ধরনের ফাইবার միասে̧শে পাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে।
  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমায়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘক্ষণ পেটে ভরা ভাব, অতিরিক্ত আহার প্রতিরোধে সহায়ক।
  • ডিটক্স এবং হাইড্রেশন: টক্সিন বের করে, অভ্যন্তরীণভাবে জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।

৫. সঠিক মাত্রা ও সতর্কতা

  • ইসবগুলের ভুসি: দিন Prov. ৫–১০ গ্রাম (১–২ চা চামচ)
  • তোকমা দানা: দিন Prov. ১০–১৫ গ্রাম (১ টেবিল চামচ)
  • পানি খাওয়ার পরিমাণ: প্রতিটি পরিমাণের সঙ্গে অন্তত ২০০–৩০০ মিলি পানি পান করুন।
  • শুরুতে কম দিয়ে শুরু: ধীরে ধীরে ডোজ বাড়াতে হবে—গ্যাস বা প্লাগিং এড়াতে।
  • ডায়াবেটিস/গর্ভাবস্থা: আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

4. সঠিক মাত্রা ও ব্যবহার পদ্ধতি

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার সঠিক মাত্রা ও প্রস্তুতির ধাপগুলো অনুসরণ করলে নিরাপদ ও কার্যকরী ফল পাওয়া যায়। নিচে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হলো:

উপাদানদৈনিক মাত্রাপরিমাপপ্রস্তুতি পদ্ধতি
ইসবগুলের ভুসি৫–১০ গ্রাম১–২ চা চামচ১. গ্লাসে ২০০–২৫০ মিলি পানি নিন
২. ইসবগুলের ভুসি ঢেলে ৩০ সেকেন্ড নেড়ে পান করুন।
তোকমা দানা১০–১৫ গ্রাম১ টেবিল চামচ১. ১৫–২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন
২. ভিজে গেলে অতিরিক্ত জল ঝরিয়ে ব্যবহার করুন।

৫.১ প্রস্তুতির ধাপ

  • ভিজিয়ে রাখা:
  • প্রথমে একটি ছোট বাটিতে ১০–১৫ গ্রাম তোকমা দানা রাখুন, উপরে ২–৩ গুণ পানি দিন।
  • ১৫–২০ মিনিট রেখে দিন, দানা জেল–মতো ফুলে উঠবে।
  • মন্থন:
  • তাজা ফুলে ওঠা তোকমা দানা আর ইসবগুলের ভুসি একসঙ্গে একটু নেড়ে মিশান।
  • যদি প্রয়োজন বেশি ঘনতা পেতে চান, একটু কম পানি দিন; পাতলা পছন্দ হলে পানি বেশি রাখুন।
  • পান করার সময়সূচি:
  • সকালে খালি পেটে: হজম শক্তি বাড়াতে ও ডিটক্সিফাইড হতে।
  • দুপুরের খাবারের আগে: অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে।
  • দিনের শেষেও (ঐচ্ছিক): রাতে হজম সহায়ক হিসেবে।

৫.২ পর্যাপ্ত জলপান

  • প্রতিবার ৫–১০ গ্রাম ভুসি মিলিয়ে খাবারের সাথে অন্তত ২০০–৩০০ মিলি পানি পান করুন।
  • তোকমা ও ভুসি একসাথে খেলে দেহে জল ধারণ বাড়ে, তাই দিনে ১.৫–২ লিটার সাধারণ পানি অবশ্যই নিন।

৫.৩ ধীরে-ধীরে মাত্রা বৃদ্ধি

  • শুরুতেই বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন। প্রথম সপ্তাহে ১ চা চামচ ভুসি ও ১ টেবিলচামচ ভিজানো দানা দিয়ে শুরু করুন।
  • পরবর্তী ১–২ সপ্তাহ পরেই ধাপে ধাপে দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা (ইসবগুল ২ চা চামচ, তোকমা ১ টেবিলচামচ) পূরণ করুন।

৫.৪ সতর্কতা

  • গ্যাস্ট্রিক সমস্যা: যদি বেশি মাত্রায় খেতে গ্যাস বা পেট ফুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, পানি আরও বাড়িয়ে, লবণহীন দই বা লেবু-জলের সাথে খান।
  • ডায়াবেটিস/হাইপারটেনশন: দীর্ঘমেয়াদি সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • গর্ভাবস্থা ও স্তনপান: অতিরিক্ত ফাইবার সেবনের কারণে পুষ্টি শোষণে ব্যাঘাত ঘটতে পারে—অবশ্যই বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুসরণ করুন।

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানার উপকারিতা

5. সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা একসাথে সেবন করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ হলেও, কিছু সতর্কতা মেনে চললে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অসুবিধা এড়ানো যায়:

  1. জলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সেবন
    • প্লাগিং (অবরোধ) ঝুঁকি: ফাইবার একত্রে বেশি মাত্রায় গিলে গেলে খাদ্যনালী বা অন্ত্রে ফাঁকা জল না পেয়ে ফাইবার সজীব অবস্থায় জেল মিশ্রণ তৈরি করে, যা অবরোধ ঘটাতে পারে।
    • পরামর্শ: প্রতিবার ইসবগুলের ভুসিসহ বা তোকমা দানাসহ খাওয়ার পর কমপক্ষে ২০০–৩০০ মিলিলিটার (১ গ্লাস) পানি পান করুন।
  2. গ্যাস্ট্রিক ও শ্বেতস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা
    • গ্যাস ও ফুলে যাওয়া: অধিক ফাইবার হঠাৎ সেবনে পেটে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হতে পারে, ফুলে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
    • দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া: খুব বেশি পরিমাণে থাকলে পাতলা মল বা ডায়রিয়া হতে পারে।
    • পরামর্শ: প্রথম সপ্তাহে কম ডোজ (১ চা চামচ ভুসি, ১ টেবিলচামচ তোকমা) দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।
  3. অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
    • লাল র‍্যাশ বা চুলকানি: বিরল ক্ষেত্রে ত্বকে র‍্যাশ বা অতিরিক্ত চুলকানি হতে পারে।
    • শ্বাসকষ্ট: খুবই কম ক্ষেত্রে ফাইবার জমে শ্বাসনালীতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    • পরামর্শ: প্রথমবার সেবনের পর ২৪–৪৮ ঘণ্টা লক্ষ্য করুন; সমস্যা হলে বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  4. ঔষধের শোষণ হ্রাস
    • মেডিসিন ইন্টারঅ্যাকশন: ফাইবার প্রকার খাদ্যগ্রহণ ধীর করে ফলে কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমতে পারে (যেমন–থাইরয়েড, ডায়াবেটিসের কিছু ট্যাবলেট)।
    • পরামর্শ: ওষুধ খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে ফাইবারযুক্ত পানীয় নিন।
  5. ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন রোগীদের বিশেষ যত্ন
    • রক্তের শর্করা ও রক্তচাপ: ইসবগুল ও তোকমা রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করলেও, অতিরিক্ত হঠাৎ সেবনে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তচাপের বড় ওঠানামি হতে পারে।
    • পরামর্শ: নিয়মিত শর্করা–রক্তচাপ পরিমাপ করুন ও চিকিৎসকের পরামর্শে মাত্রা ঠিক করুন।
  6. গর্ভাবস্থা ও স্তনপান
    • পুষ্টি শোষণ ব্যাহত: অতিরিক্ত ফাইবার খাবারে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বা মিনারেলের শোষণ কমে যেতে পারে।
    • পরামর্শ: গর্ভবতী বা স্তনপানকারী মায়েদের অবশ্যই আগে এসেনাশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
  7. অ পর্যাপ্ত কার্যকরন
    • দীর্ঘমেয়াদি সেবন: অনিয়মিত বা নির্দিষ্ট ডোজ না মেনে চললে ফাইবারের সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
    • পরামর্শ: দৈনিক একই সময়ে, নির্দিষ্ট পরিমাণে সেবন নিশ্চিত করুন—সকালে খালি পেটে বা খাবারের আগে।

6. শেষ কথা

ইসবগুলের ভুসি ও তোকমা দানা—দুটি স্বাভাবিক সুপারফুড, যেগুলো আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য দুইই নিশ্চিত। তবে সঠিক মাত্রাপর্যাপ্ত জল গ্রহণের বিষয়টি মেনে চলুন।

আজই শুরু করুন, আপনার শরীরের জন্য এই গুণী উপাদানগুলোকে একসাথে সংযোজন করে দেখুন!

যদি এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য উপকারী মনে হয়, তবে শেয়ার ও কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না!

---Advertisement---

Leave a Comment